আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, 'আমরা এখানে চ্যাম্পিয়ন হতেই এসেছি।' চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করাচিতে মাঠে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেনও উল্লেখ করেছেন যে আট দলের এই টুর্নামেন্টে সবাই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সামর্থ্য রাখে। আফগানিস্তান দলের সাম্প্রতিক সাফল্য, বিশেষ করে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছানো এবং আগের ওয়ানডে বিশ্বকাপে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের অতিমানবীয় ইনিংস না হলে সেরা চারে ওঠার সম্ভাবনা, তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
তবে শহীদি অতীত সাফল্যের ওপর নির্ভর না করে ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চান। তিনি বলেন, 'গত দুটি বিশ্বকাপে আমরা ভালো খেলেছি, কিন্তু সেটা এখন অতীত। আমাদের লক্ষ্য হলো দল হিসেবে নিয়মিত উন্নতি করা।' তিনি আরও যোগ করেন, 'আমি বিশ্বাস করি আমাদের দলটা ভালো এবং এই ধরনের কন্ডিশন আমাদের জন্য মানানসই। অধিনায়ক ও দলের নেতা হিসেবে আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী যে আমরা পরের ধাপে যেতে পারব।'
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বশেষ দুটি ওয়ানডে ম্যাচে জয় পাওয়া আফগানিস্তান দলের জন্য এটি একটি বাড়তি আত্মবিশ্বাসের বিষয়। শহীদি আশা প্রকাশ করেন, 'গত দুই বছরে আমরা অনেক মানসম্পন্ন ক্রিকেট খেলেছি। আমাদের জন্য এবার ভালো সুযোগ, কারণ ছেলেরা বেশ অভিজ্ঞ। আশা করি জয় দিয়েই আমাদের টুর্নামেন্ট শুরু হবে এবং টুর্নামেন্টজুড়ে একই ধরনের মোমেন্টাম ধরে রাখতে পারব।'
আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের এই উত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। দেশটির ক্রিকেট বোর্ড এবং খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফলস্বরূপ এই সাফল্য এসেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে দলটি আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আফগানিস্তান দলের এই আত্মবিশ্বাস এবং সাম্প্রতিক সাফল্য তাদেরকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং দলের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা তাদেরকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো বড় মঞ্চে সফল হতে হলে প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। প্রতিপক্ষ দলগুলোর শক্তি ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে সঠিক কৌশল প্রয়োগ করতে হবে। শহীদি এবং তার দল এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত এবং দেশবাসীর সমর্থন ও দোয়া তাদেরকে আরও উজ্জীবিত করবে।
আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের এই যাত্রা শুধু তাদের দেশের জন্য নয়, বরং সমগ্র ক্রিকেট বিশ্বের জন্যই একটি প্রেরণার উৎস। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ কিভাবে খেলাধুলার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, তার উজ্জ্বল উদাহরণ আফগানিস্তান ক্রিকেট দল।
শেষমেশ, হাশমতউল্লাহ শহীদির নেতৃত্বে আফগানিস্তান দল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কেমন পারফরম্যান্স করে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে তাদের আত্মবিশ্বাস, প্রস্তুতি এবং সাম্প্রতিক সাফল্য ইঙ্গিত দেয় যে তারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে।
