যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন উত্তেজনার জেরে জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের দূতের সংবাদ সম্মেলন বাতিল

 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং মার্কিন দূত কিথ কেলোগের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন হঠাৎ বাতিল করা হয়েছে। এই ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সংবাদ সম্মেলন বাতিলের পটভূমি

প্রায় তিন বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউক্রেনের প্রতি তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে জেলেনস্কিকে "নির্বাচনবিহীন একনায়ক" হিসেবে সমালোচনা করেছেন, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায়, কিয়েভে নির্ধারিত জেলেনস্কি ও কেলোগের যৌথ সংবাদ সম্মেলন মার্কিন পক্ষের অনুরোধে বাতিল করা হয়। এর ফলে পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনটি শুধুমাত্র ফটোসেশনে সীমাবদ্ধ থাকে, কোনো বক্তব্য বা প্রশ্নোত্তর পর্ব ছাড়াই।

যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা ও ইউক্রেনের প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইউক্রেনের সমালোচনা করে বলেছেন, জেলেনস্কি যুদ্ধ সমাপ্তির প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করছেন এবং মার্কিন সহায়তা যথাযথভাবে ব্যবহার করছেন না। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ ইউক্রেনকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করা "অগ্রহণযোগ্য" এবং প্রস্তাবিত চুক্তি স্বাক্ষর করা ইউক্রেনের জন্য সর্বোত্তম নিরাপত্তা নিশ্চয়তা হবে। তবে জেলেনস্কি মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন, কারণ তিনি মনে করেন এটি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রদান করে না।

ইউক্রেনের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো শান্তি চুক্তি মেনে নেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে কোনো চুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে, ইউরোপীয় নেতারা জেলেনস্কির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার উভয়েই ইউক্রেনের প্রতি তাদের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

রাশিয়ার ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি

রাশিয়া এই সুযোগে বেলারুশের সঙ্গে বড় ধরনের সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা করছে, যা অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। এছাড়া, রাশিয়া ও চীনের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সংলাপকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা ইউক্রেনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ কৌশল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

উপসংহার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে বর্তমান কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই পরিস্থিতিতে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Ok, Go it!