ছয় মাসে ১৬টি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ

 

Play AI voice reading

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত ছয় মাসে নতুন ১৬টি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ এই পরিবর্তনেরই প্রমাণ। বিশেষ করে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দলের উত্থান বেড়ে গেছে।

জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে শিগগিরই একটি নতুন রাজনৈতিক দলের নাম ঘোষণা হতে যাচ্ছে। দলের শীর্ষ ছয়টি পদ ইতোমধ্যে নির্ধারিত হয়েছে। এছাড়া, সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে আরেকটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শামীম কামাল নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই দলের সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য মেজর জেনারেল (অব.) ইবনে ফজল সায়েখুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নতুন গঠিত দলগুলোর মধ্যে অনেকেই এখনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেনি। কিছু দল সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব করছে, আবার কিছু দল সীমিত সদস্য নিয়ে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। নেতাকর্মীরা দলের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চিত হলেও মাঠে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন।

উদাহরণস্বরূপ, ওয়ার্ল্ড মুসলিম কমিউনিটি গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর আত্মপ্রকাশ করলেও এখনো তেমন কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। দলের আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা মাহমুদ আব্বাস জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও জেলা ভিত্তিক কমিটি গঠনে কাজ করছেন এবং ঈদের পর পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করবেন।

সমতা পার্টি, যা গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর আত্মপ্রকাশ করেছে, মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে 'মার্চ ফর হিউম্যানিটি' কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক কমিটি গঠনের চেষ্টা করছে। দলের আহ্বায়ক হানিফ বাংলাদেশি এই তথ্য জানিয়েছেন।

গণ-অধিকার পরিষদ থেকে বেরিয়ে আসা একাংশের সদস্যরা চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি 'আমজনতার দল' নামে একটি নতুন দল ঘোষণা করেছেন। দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী কার্যক্রমে নিয়োজিত আছেন, তবে এখনো নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেননি।

বাংলাদেশ জন-অধিকার পার্টি, যা গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করেছে, রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান ইসমাইল সম্রাট জানিয়েছেন, বড় একটি ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল মাঠ থেকে সরে যাওয়ায় সৃষ্ট শূন্যতা পূরণে তারা এই দল গঠন করেছেন।

নতুন দলগুলোর মধ্যে সার্বভৌমত্ব আন্দোলন ও জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ কিছুটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। সার্বভৌমত্ব আন্দোলন গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর আত্মপ্রকাশ করেছে এবং আগামী নির্বাচনে ৫০ জনের বেশি প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ, যা গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর আত্মপ্রকাশ করেছে, তাদের ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে লিফলেট বিতরণ ও পথসভা আয়োজন করছে এবং ছাত্র-জনতার সব আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে।

প্রথম আত্মপ্রকাশ করা নিউক্লিয়াস পার্টি অব বাংলাদেশ (এনপিবি) গত বছরের ২৩ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এরপর আরও কয়েকটি দল আত্মপ্রকাশ করেছে, যেমন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশ জনপ্রিয় পার্টি, বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি, বাংলাদেশ জাগ্রত পার্টি এবং বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টি।

নতুন এই দলগুলোর উত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে তাদের সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও কার্যক্রমের অভাব এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে তারা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Ok, Go it!