Play AI voice reading
আতঙ্কিত হওয়ার মতো খবর! চীনে নতুন একটি করোনা ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। এইচকেইউ ৫-কোভ-২ নামের এই ভাইরাসের সঙ্গে মহামারি ভাইরাসের বেশ মিল রয়েছে। মাত্র দুই বছর আগে শেষ হওয়া কোভিডের পর আরেকটি মহামারির কবলে পড়তে পারে বিশ্ব, এমন আশঙ্কায় বুক কাঁপছে!
চীনের উহানের ‘ইনস্টিটিউট অব ভাইরালজি’ নতুন স্ট্রেনটি বাঁদুরের মধ্যে পেয়েছেন। এছাড়া এটির সঙ্গে মার্সের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। মার্স করোনা ভাইরাস বেশ শক্তিশালী একটি ভাইরাস, যেটিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চার ভাগের তিন ভাগই মারা যায়, এই তথ্য ভাবতেই গা শিউরে উঠছে!
নতুন করোনা ভাইরাসটির সন্ধান দিয়েছেন সংক্রামকবিদ শি ঝেংলি। করোনা ভাইরাস নিয়ে কাজ করেন বলে তিনি ‘ব্যাটওমেন’ নামে পরিচিত। নতুন ভাইরাসটির বিস্তারিত তথ্য একটি বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশ করেছেন তিনি। গবেষণায় দেখা গেছে, এইচকেইউ৫-কোভ-২ নামের নতুন ভাইরাসটি মানুষের কোষে এমনভাবে প্রবেশ করে যেমনটি করত কোভিড-১৯। সংক্রামকবিদ শি ঝেংলি জানিয়েছেন, এই ভাইরাসটিতে মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি, যা খুবই উদ্বেগের বিষয়।
মার্স হলো শ্বাসযন্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ। যেটি প্রাণী থেকে মানুষে এবং মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। এটির কারণে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, বমি হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি প্রাণহানির কারণও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এখন পর্যন্ত মার্স ভাইরাসে মাত্র দুইজন আক্রান্ত হয়েছেন। দু’জনের দেহেই এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল ২০১৪ সালের মে মাসে। এবং তারা দুজনই মধ্যপ্রাচ্যে ছিলেন। এই ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন নেই, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নতুন এইচকেইউ৫-কোভ-২ ভাইরাসটি মারবেকোভাইরাস পরিবারের একটি জীবাণু। মারবেকোভাইরাস পাওয়া গেছে মিঙ্ক এবং প্যাঙ্গোলিন নামের দুটি প্রাণীর মধ্যে। ধারণা করা হয় এই প্রাণীর মাধ্যমে বাঁদুর ও মানুষের মধ্যে ভাইরাসটি আসে।
এই খবরটি শোনার পর স্বাভাবিকভাবেই মনে আতঙ্ক এবং উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। আবার কি সেই ভয়াবহ দিনগুলো ফিরে আসবে? আবার কি লকডাউনের মধ্যে দিন কাটাতে হবে? আবার কি প্রিয়জনদের হারানোর ভয় তাড়া করবে? এই প্রশ্নগুলো মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।
তবে, আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং নিয়মিত হাত ধুতে হবে। কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
মনে রাখতে হবে, সচেতনতাই পারে এই নতুন ভাইরাসের মোকাবিলা করতে।
