Play AI voice reading
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সচেতনভাবে এই চুক্তি ভঙ্গ করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, হামাস চুক্তির শর্তাবলী পরিবর্তন করতে চাচ্ছে, যা চুক্তির বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে।
গত ১৬ জানুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র এবং কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ১ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এই চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষ বন্দি বিনিময় এবং সহিংসতা বন্ধে সম্মত হয়েছিল। তবে, চুক্তি কার্যকরের পূর্বেই উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন, হামাস চুক্তির একটি নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে আপত্তি তুলেছে, যেখানে ইসরায়েলকে কিছু ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তির উপর ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "হামাস চুক্তির একটি অংশ নিয়ে আপত্তি তুলেছে, যার মধ্যে ইসরায়েলকে কিছু ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তির ব্যাপারে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।"
অন্যদিকে, হামাসের রাজনৈতিক শাখার জ্যেষ্ঠ সদস্য বাসেম নাঈম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "নেতানিয়াহু জেনেবুঝে গাজায় যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ বানচাল করতে চাইছেন।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েল সরকার চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনায় যুক্ত হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে, ইসরায়েলের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। গাজায় আটকে থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির জন্য নেতানিয়াহুর উপর প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করা ছাড়া জিম্মিদের জীবিত ফিরে পাওয়ার অন্য কোনো সমাধান নেই।
এদিকে, কাতার অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির আলোচনায় তথ্য বিকৃত করে এবং বারবার মিথ্যা বলে বৈশ্বিক জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের কৌশলে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ব্যর্থ হবে।
উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং উত্তেজনার ফলে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যদি এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তবে পুনরায় সহিংসতা শুরু হতে পারে, যা উভয় পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর হবে।
সার্বিকভাবে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ফলে গাজা উপত্যকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানানো এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া।