Play AI voice reading
চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৫ উপলক্ষে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উত্তেজনা তুঙ্গে। দীর্ঘ ২৯ বছর পর দেশটি আইসিসির কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে, যা পাকিস্তানের জন্য গর্বের বিষয়। তবে এই আয়োজনের মূল চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর হামলার পর থেকে আন্তর্জাতিক দলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং সরকার মিলে টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। লাহোর ও করাচিতে ২০,০০০-এর বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, সঙ্গে প্যারা-মিলিটারি ও গোয়েন্দা সংস্থার তদারকি। এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় ১০,০০০ এআই-সক্ষম সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেহারা শনাক্ত করতে সক্ষম। লাহোরে ৮,০০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য এবং রাওয়ালপিন্ডিতে ৫,০০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।
তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে দর্শকদের মাঠে প্রবেশের ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। এতে পিসিবির নিরাপত্তা পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এমন পরিস্থিতিতে, পাকিস্তানে অবস্থানরত দলগুলো তাদের নিরাপত্তা নিয়ে সর্বদা সতর্ক। বাংলাদেশ দলসহ অন্যান্য দলগুলো কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে, যেখানে টিম হোটেল, অনুশীলন এবং খেলার মাঠে সশস্ত্র প্রহরা নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি খেলোয়াড়দের হোটেল থেকে বের হওয়াও সীমিত করা হয়েছে, যাতে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকে।
পাকিস্তান এই টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজেদের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা সক্ষমতা প্রদর্শন করতে চায়। এটি ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের পথ সুগম করতে পারে।
তবে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো বড় মাপের টুর্নামেন্ট আয়োজনের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা পাকিস্তানের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সফল আয়োজনের মাধ্যমে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা যায়।