যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে আলোচনার পূর্বে জানিয়েছেন, মি. জেলেনস্কির প্রতি তার "অনেক সম্মান" রয়েছে।
পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আজ হোয়াইট হাউজে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনের খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকার সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা করবেন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো যে সম্প্রতি মি. জেলেনস্কিকে "স্বৈরশাসক" বলার জন্য তিনি ক্ষমা চাইবেন কি না। উত্তরে তিনি বলেন, তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না যে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন এবং মি. জেলেনস্কিকে "খুব সাহসী" বলে অভিহিত করেন।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, ইউক্রেনের খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে একটি চুক্তি করা প্রয়োজন। তবে মি. জেলেনস্কি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা হোয়াইট হাউজে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে মি. জেলেনস্কির সাথে তার আসন্ন বৈঠক "খুব ভালো" হবে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা "খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে"।
রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের তিন বছরেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মস্কোর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের পশ্চিমা মিত্রদের বিস্মিত করেছে।
আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প মি. জেলেনস্কিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য দায়ী করে বলেছিলেন, "আপনি তিন বছর ধরে সেখানে আছেন। আপনার এটি শেষ করা উচিৎ ছিল... এটি শুরুই করা উচিৎ ছিল না। আপনি একটি চুক্তি করতে পারতেন।"
গতকাল বৃহস্পতিবার, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের সাথে আলোচনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সাংবাদিকরা মি. জেলেনস্কির সাথে আসন্ন বৈঠক সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, "আমার ধারণা আগামীকাল আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হবে।"
বিবিসি সংবাদদাতা ক্রিস ম্যাসন তাকে জিজ্ঞেস করেন যে তিনি এখনও ভলোদিমির জেলেনস্কিকে "একনায়ক" মনে করেন কি না। উত্তরে তিনি বলেন, "আমি সেটা বলেছিলাম? আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না সেটা।"
মি. জেলেনস্কি আশা করছেন, আজ শুক্রবারের বৈঠক থেকে তিনি ইউক্রেনের নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চয়তা পাবেন এবং এই বৈঠক সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ভিত্তি হতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে তিনি "অনেক বিষয়ে উদার"। তবে তিনি চান, কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা নির্ধারিত হওয়ার আগে রাশিয়া এবং ইউক্রেন একটি চুক্তির বিষয়ে সম্মত হোক।
ভলোদিমির জেলেনস্কি আজ যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেনের বিরল খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি করবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে ইউক্রেনে মার্কিন খনির কার্যক্রম রাশিয়ার ভবিষ্যৎ আক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করবে।
বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, "আপনি বলতে পারেন যে এটি একটি ব্যাকস্টপ। আমরা যদি সেখানে আমাদের কর্মীদের নিয়ে থাকি এবং আমাদের দেশের জন্য প্রয়োজনীয় বিরল খনিজ ও অন্যান্য জিনিস নিয়ে কাজ করি, আমার মনে হয় না যে সেখানে কেউ আক্রমণ করবে।"
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এর আগে বলেছেন যে যুদ্ধ শেষ হলে শান্তিরক্ষী বাহিনীর অংশ হিসেবে ইউক্রেনে সৈন্য পাঠাতে যুক্তরাজ্য প্রস্তুত। তবে সেটি তখনই সম্ভব, যদি বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক জোট নেটোর প্রধান সদস্য যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সমর্থন প্রদান করে।
রাশিয়া যদি ব্রিটিশ সেনাদের আক্রমণ করে, সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, "ব্রিটিশ সৈন্যরা অসাধারণ। তাদের অসাধারণ সামরিক বাহিনী রয়েছে। তারা নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম। কিন্তু তারা সাহায্য চাইলে আমি করবো, ঠিক আছে?"
নেটো'র আর্টিকেল পাঁচ অনুযায়ী, কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রমণের শিকার হলে মিত্ররা তাকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের "ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি"র প্রশংসা করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ইউক্রেনের মাটিতে বুট ও আকাশে বিমান রাখতে যুক্তরাজ্য প্রস্তুত।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা এখন ইউক্রেনে চলমান বর্বর যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের বিষয়ে মনোযোগী।"
তবে তিনি যোগ করেছেন, শান্তি চুক্তি এমন হওয়া উচিত নয়, "যা আগ্রাসী শক্তিকে পুরস্কৃত করে বা ইরানের মতো শাসনব্যবস্থাকে উৎসাহিত করে।"
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের ব্যাপারে তার দৃষ্টিভঙ্গি সবার জানা।
এই প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয় যে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মি. পুতিনকে বিশ্বাস না করলেও তিনি কেন মি. পুতিনকে বিশ্বাস করেন? উত্তরে তিনি বলেন, "আমি অনেক লোককে চিনি যাদের সম্পর্কে আপনি বলবেন যে তারা কখনোই আপনাকে প্রতারণা করবে না। কিন্তু তারা বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ মানুষ।"


